Newspaper

Sunday, June 9, 2019

এয়ারপোর্টে একটা তরুণ ছেলে বসে আছেন।

এয়ারপোর্টে একটা তরুণ ছেলে বসে আছেন। কিছুক্ষণ পরে আরেকজন তরুণী তার পাশেই এসে বসলেন। দুজনই প্লেন ছাড়ার সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।
এরমধ্যে তরুণীটি একটা বড় বিস্কিট (কুকিজ) এর প্যাকেট খুলে বিস্কিট খাচ্ছে। তরুণ ছেলেটিও একই প্যাকেট থেকে বিস্কিট খাচ্ছে!
তরুণীটি একটু বিরক্ত হওয়া শুরু করলো।
"এটা কোন ধরণের অভদ্রতা, আরেকজনের বিস্কিটের প্যাকেট থেকে না বলেই বিস্কিট খেয়ে নিচ্ছে!"
তরুণ ছেলেটি আরও একটা বিস্কিট নিলো। তরুণটিও আরেকটা নিলো।
তরুণীটা বিরক্ত থেকে বিরক্ত হতে থাকলো।
আর ভাবলো,
"কীরকম অসভ্য এই তরুণ ছেলেটি। কোন দেশের অসভ্যভুত। গডই জানে ভালো।"
বিরক্তির চরম সীমায়। মনে মনে তরুণ ছেলেটিকে যা ইচ্ছে তাই বলেই যাচ্ছে।
মেজাজ খারাপের চরম সীমায় পৌঁছে গেলো।
যখন খেতে খেতে মাত্র একটি বিস্কিট অবশিষ্ট থাকলো।
তরুণ ছেলেটি সেই বিস্কিটটা নিজে নিলো,
এবং সেটিকে দু টুকরো করে তরুণীটিকে অর্ধেক দিলো এবং নিজে অর্ধেক খেলো।
তরুণীটি তখন তার সহ্যের সব সীমা ছাড়িয়ে গেলো।
"আরে হারামির বাচ্চা! আমার বিস্কিট এতক্ষণ না বলে খেয়ে নিলি, আর আবার শেষ বিস্কিটটার অর্ধেক দিয়ে ভদ্রতা দেখাচ্ছিস, যতসব অসভ্য দেশের অসভ্য নাগরিক!"
এরমধ্যে তরুণ ছেলেটির প্লেন ছাড়ার সময় হয়ে গেলো। এবং সে চলে গেলো।
তরুণীটির প্লেন ছাড়তে তখনো দেরি।
সে তার ব্যাগ থেকে একটা বই বের করার জন্য ব্যাগ খুললো।
ব্যাগ খুলেই সে চমকে গেলো,
লজ্জায় তার চেহারা লাল হয়ে গেলো।
নিজেকে তার ভীষণ ছোটো মনে হতে লাগলো।
কারণ কী জানেন?
সেই তরুণ ছেলেটির জন্য। যে তরুণ ছেলেটি তাকে শেষ বিস্কিটেরও অর্ধেকটা দিয়েছিলো।
ঠিক একই রকম বিস্কিটের প্যাকেটটি তার ব্যাগের মধ্যেই রয়ে গেছে। তরুণীটি যখন বুঝলো আসলে সে নিজের মনে করে তরুণ ছেলেটির বিস্কিটই সে খেয়েছে!
ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সেই তরুণ তখন তার গন্তব্যের প্লেনে উঠে গেছে।
এর নাম  কমিউনিকেশনে প্যারাডাইম শিফট বলতে বুঝায় , আপনি এমন কিছু ভাবছেন, আসলে তা হয়তো তা না এবং আসলের উলটো বুঝে আপনি একসময়ে লজ্জা পাবেন।
উপরের গল্পটি একটা বিখ্যাত গল্প। গল্পটি অনেকেই জানি। গল্পটি আমাদের বদলে দিতে পারে।
যা ভাবছি, তা কি ঠিক ভাবছি?
ভাবছেন, কেউ আপনার ক্ষতি করতে চাইছে, অথচ সে আপনার মঙ্গলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছে।
কমিউনিকেইশন গ্যাপ তৈরি হওয়ার একটা বড় কারণ
আপনি যখন জানবেন, তখন যেন এয়ারপোর্টের সেই তরুণীর মতো না হয়।
খুব যেন দেরি না হয়ে যায়।
দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটা সম্পর্কে, অন্যকে আঘাত করার সময়, অন্যকে ত্যাগ করার সময় এই মনে রাখলে বহু ক্রাইসিসের মধ্যেও ভালো থাকবেন।
ভালো থাকতে হলে একরৈখিক ধারণা একটা শত্রু। শুনতে হয় সব পক্ষ থেকে, ভাবতে হয় চারপাশ থেকে।

No comments:

Post a Comment